Saturday, 16 May 2020

করোনা আক্রান্ত গর্ভবতী নারীর পাশে পুলিশ

গত ০৬ মে ২০২০ খ্রিঃ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০ টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন বংশাল থানা এলাকার বাসিন্দা জনৈক মোঃ জাহিদুর রহমান মোবাইল ফোনে বংশাল থানাকে জানান, তার স্ত্রীর ডেলিভারির আনুমানিক তারিখ ১৫ বা ১৬ মে ২০২০ খ্রিঃ। কিন্তুু গত তিনদিন ধরে তার স্ত্রীর জ্বর, গলা ব্যাথা। তিনি তার স্ত্রীর করোনা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিতে পুলিশের কাছে সহায়তা চান।এমন খবরে বংশাল থানা পুলিশ নিজেদের সুরক্ষা উপকরণ পরে এবং ওই ব্যক্তি ও তার গর্ভবতী স্ত্রীর জন্য পিপিই, মাস্ক অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় করে সাথে নিয়ে তার বাসায় যায়। এরপর পুলিশের গাড়িতে করে ওই নারীকে তার স্বামীসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাপাতালের করোনা বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানে ওই নারীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু ওই নারী ও তার স্বামী তখনই হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে তাদের পুনরায় বাসায় পৌঁছে দেয় পুলিশ।এর পরের দিন অর্থাৎ ০৭ মে ওই নারীর স্বামী পুলিশকে ফোন করে জানান, তার স্ত্রীর করোনা পরীক্ষার ফলাফলে পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে। তিনি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর থেকেই ওই নারীর চিকিৎসার সংক্রান্ত যাবতীয় খোঁজ-খবর রাখে পুলিশ।আজ ১১ মে ২০২০ খ্রিঃ সকালে সাড়ে আটটার দিকে ওই নারীর স্বামী আবারও থানায় ফোন করে জানান, তার স্ত্রীর প্রসবজনিত ব্যাথা শুরু হয়েছে। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু তিনি কোনো অ্যাম্বুলেন্স যোগাড় করতে পারেননি। এ খবর পেয়ে যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে আবারও ওই নারীর বাসায় ছুটে যায় পুলিশ। এরপর যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনেই পুলিশের গাড়িতে করে ওই নারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে তাকে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত গর্ভবতী ওই নারী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ওই নারী ও নবজাতকের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।করোনার কারণে সৃষ্ট এমন দুর্দিনে স্ত্রী ও সন্তানের চিকিৎসা ও সুরক্ষায় পুলিশের সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য ওই নারীর স্বামী মোঃ জাহিদুর রহমান বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।
সর্বদাই জনগণের পাশে, বাংলাদেশ পুলিশ।

শেয়ার করুন

0 Please Share a Your Opinion.: