Saturday, 30 May 2020

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ধান ক্ষেত।টাঙ্গাইলের কৃষকদের মাথায় হাত।



টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অসময়ের টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে শতশত হেক্টর কাঁচা ও আধা পাকা বোরো ধান ক্ষেত। একেবারে ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে এমন জলাবদ্ধতা যেন কৃষকের আনন্দটাই কেড়ে নিয়েছে।

এক দিকে মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমনের থাবা অপর দিকে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বোরো ধান কেড়ে নেওয়ায় শতশত কৃষক এখন সর্বশান্ত। গতকাল শনিবার উপজেলার কয়েকটি এলাকায় খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, একমুঠো ধানও গোলায় তুলতে পারবো না, সারা বছর আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।


মির্জাপুর উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র জানায়, মির্জাপুর পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের চলতি মৌসুমে বোরো ধানের লক্ষমাত্রা ছিল প্রায় ২০ হাজার ৫০০শ হেক্টর। উৎপাদন হয়েছে ২০ হাজার ৮১৫ হেক্টর। আবাহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং বীজ, সার, কীটনাশকের দাম কম এবং সেচের কোন সংকট না থাকায় চলতি বছর মির্জাপুর পৌরসভা, উপজেলার মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, লতিফপুর, গোড়াই, আজগানা, তরফপুর এবং বাঁশতৈল এই ১৪ ইউনিয়নে বোরো ধান আবাদের বাম্পার পলন হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং নদীতে জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় নিচু অঞ্চলের কাঁচা ও আধা পাকা বোরো ধান ক্ষেত তলিয়ে গেছে।


উপজেলার তিন নম্বর ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ বলেন, তার ইউনিয়নে অন্ততপক্ষে দেড়শ হেক্টও জমির পাকা ও আধা পাকা বোরো ধান ক্ষেত পানির এখনো পানির নিচে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ মশিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মির্জাপুরে এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিছু কিছু এলাকার নিচু জমির ধান বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে নষ্ট হয়েছে। যে সব এলাকায় বোরো ধান ক্ষেত বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে ঐ সব এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষকদের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে। 

উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করা হবে  ।


শেয়ার করুন

0 Please Share a Your Opinion.: