Saturday, 6 June 2020

মালয়েশিয়ায় করোনার সার্টিফিকেট বিক্রির অপরাধে ২ বাংলাদেশী আটক।



অভিবাসী কর্মীদের জন্য কোভিড-১৯ টেস্ট বাধ্যতামূলক করছে মালয়েশিয়ার সরকার।

চাকরিতে যোগদান করতে হলে অভিবাসী বা বিদেশি শ্রমিকদের কোভিড-১৯ টেস্ট এর ফলাফল সার্টিফিকেটে নেগেটিভ হতে হবে। আর সেই সুযোগে ফাঁদ পেতেছে বাংলাদেশি ও কিছু দালাল চক্র।

করোনার নেগেটিভ ফলাফলের সার্টিফিকেট দেয়ার বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার রিঙ্গিত। সহজ সরল বাংলাদেশী ও অন্যান্য দেশের শ্রমিকদের ধোকা দেয়ার ব্যবসা খুলে বসেছে কিছু দালাল। মালয়েশিয়ার বার্তা সংস্থা বারনামায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, অভিবাসী কর্মীদের জন্য কোভিড-১৯ টেস্ট এর নেগেটিভ ফলাফলের,

সার্টিফিকেট জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের অভিবাসী হটস্পট বুকিত বিনতাং জালান আলোর এলাকা থেকে ২ জন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷

কুয়ালালামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাতুক সেরি মাজলান লাজিম বলেছেন, গতকাল সন্ধ্যা ৫.৪০ মিনিটের দিকে কাউন্টারে বসে থাকা ২ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুকিত বিনতাং এর জালান আলোর এলাকায় রাস্তার পাশের একটি দোকানে গত ২ সপ্তাহ ধরে চলছে এই অবৈধ কার্যক্রম। প্রতিটি কোভিড-১৯ স্ক্রিনিং টেস্ট এর সার্টিফিকেট এর জন্য ৫০ রিঙ্গিত করে নেওয়া হচ্ছিলো।


আজ পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কাউন্টারটি ৬০০ রিঙ্গিত করে ভাড়া দেয়া হয়েছে। একজন প্রহরী বা গার্ড এর মাধ্যমে একটি ল্যাপটপ পরিচালনার করে কাস্টমারদের সাথে লেনদেন করার জন্য কাউন্টারটি দিনের অল্প কিছুক্ষণ সময়ের জন্য ভাড়া নেয়া হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

মাজলান লাজিম আরও জানান, বাংলাদেশি অভিবাসীদের টার্গেট করে মূলত এই প্রতারণার কাজ শুরু করে চক্রটি এবং সেখানে গ্রেফতারকৃত দুজনের মধ্যে একজনের বেতন ১৫০০ রিঙ্গিত এবং আরেকজনের বেতন ১৭০০ রিঙ্গিত বলে দাবি করা হয়েছিল। উক্ত অভিযানে কয়েকটি ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ল্যামিনেটিং মেশিন, জাল কোভিড-১৯ পরীক্ষার করেকটি ফলাফল শীট এবং নগদ ১৩৩১ রিঙ্গিত জব্দ করা হয়েছে।


গ্রেফতারকৃত সন্দেহভাজন এবং প্রাপ্ত আলামত বাজেয়াপ্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য ডাং ওয়াঙ্গী জেলা পুলিশ সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ আইন ১৯৮৮ এর ধারা ২২ (ডি), দণ্ডবিধির ধারা ৪৬৮ এবং দণ্ডবিধির ধারা ৪৭১ ধারা এবং ইমিগ্রেশন আইনের 6 (1) (গ) অনুযায়ী মামলাটি তদন্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মাজলান বলেছেন এই কোভিড-১৯ পরীক্ষার সার্টিফিকেট জালিয়াতির বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সাথে করছেন এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মনোভাব এবং জনসাধারণকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে লাভবান হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া এবং কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা গুলোকে ক্ষুন্ন করা ও বাধা প্রদান করা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এই ধরনের জালিয়াতির বিরুদ্ধে অভিযোগ বা সত্যতা যাচাই করার জন্য কুয়ালালামপুর পুলিশ হটলাইনে 03-2115 9999 এ যোগাযোগ করতে বা নিকটস্থ যে কোনও থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।




(Copy)


শেয়ার করুন

0 Please Share a Your Opinion.: