Tuesday, 2 June 2020

রাজধানীর ন্যাশনাল ব্যাংকের ৮০ লাখ টাকা চুরির ঘটনায় ৬০ লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছে ২০ লাখ টাকা খরচ করে ঈদ বাজার করেছে চোরেরা।




#রাজধানীর ইসলামপুরের ন্যাশনাল ব্যাংকের ৮০ লাখ টাকা চুরির ঘটনায় ৬০ লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছে। বাকি ২০ লাখ টাকা খরচ করে ঈদ বাজার করেছে চোরেরা।


আজ মঙ্গলবার চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তারা চুরির ঘটনা স্বীকার করেন।
জানা গেছে, গত ১০ মে রাজধানীর পুরান ঢাকায় বিভিন্ন শাখা থেকে উত্তোলন করা ন্যাশনাল ব্যাংকের ৮০ লাখ টাকার একটি বস্তা গাড়ি থেকে খোয়া যায়। দিন-দুপুরে ঘটে যাওয়া ওই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধানে নামে গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকটি টিম। শুরু করে ছায়া তদন্ত। ঘটনার আশপাশের সিসি ক্যমেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
ফুটেজে দেখতে পায়, চুরি হওয়া ব্যাংকের সামনে ঘোরাফেরা করছে টি-শার্ট পড়া এক লোক।

প্রথমে গাড়ির সামনে দাঁড়ায় এক যুবক। কিছুক্ষণ পর আসে টি-শার্ট পড়া লোকটিও। ৫ মিনিট পর কাঁধে টাকার বস্তা নিয়ে প্রথমে মোটরসাইকেলে ওঠে যুবক। এরপরই ওঠে টি-শার্ট পড়া লোকটি।
টাকা নিয়ে এলাকা থেকে সটকে পড়েন। তাদের ফলো করছে আরো একটি মোটরসাইকেলে দুই যুবক। তার মধ্যে চার জনকে গত সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

তারা হলেন মো. হান্নান ওরফে ব্রিফকেস হান্নান ওরফে রবিন ওরফে রফিকুল ইসলাম, তার সহযোগী মো. মোস্তফা, মো. বাবুল মিয়া ও মোছা. পারভীন জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চুরির চাঞ্চল্যকর তথ্য। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় ৬০ লাখ টাকা ও দুটি বিদেশি পিস্তল।

চক্রের মূল হোতা হান্নান স্বীকার করেন, ১০/১২ বছর ধরে চুরিই তার পেশা। ঢাকার ৩ থেকে ৪শ বাসায় চুরি করেছে তারা। রাজধানীর বাড্ডা, শান্তিনগর, বনশ্রী, বংশাল, যাত্রাবাড়ি, পল্টনসহ ৩০টি স্থানে চুরি করার জন্য লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। এভাবে পুরো ঢাকা শহরেই হান্নান চক্র সক্রিয়।

রাজধানীতে তার একধিক বাড়ি ও ট্রাকের ব্যবসা রয়েছে। আছে একাধিক গাড়ি। তার স্ত্রী শপিং করে দেশের বাহিরে। ছেলে-মেয়েরা পড়াশুনা করছে দেশের নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

পুলিশ বলছে, চক্রটি এখন পর্যন্ত শত শত চুরি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই দলের মূল হোতা হান্নান বিভিন্ন মহল্লায় ঘোরাঘুরি করতেন, তারপর রেকি করে দেখে বারান্দায় কাপড় শুকাতে দেয়া আছে কি না বা লাইট জ্বলে কি না এসব দেখে তারা বুঝতে পারেন এ বাসার কেউ হয়তো বাড়িতে নেই।

এছাড়া ব্যাংক থেকে কে টাকা তুলছে, তার গতিবিধি লক্ষ্য করা। এরপর ড্রাইভার, ব্যাংক ও বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীদের টার্গেট করেই ম্যানেজ করে। এর শুরু হয় তাদের কার্যক্রম।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব আলম বলেন, তদন্তে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেই এই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

চুরি হওয়া ৮০ লাখ টাকার ৬০ লাখ উদ্ধার হয়েছে। বাকি ২০ লাখ টাকা ঈদের মার্কেট করে খরচ করেছে এই চক্র।
দীর্ঘ দিন ধরেই তারা সংঘবদ্ধভাবে রাজধানীতে চুরি করে যাচ্ছে। মূল হোতা হান্নানের বিরুদ্ধে রাজধানী যাত্রাবাড়ী, বংশালসহ বেশ কয়েকটি থানায় ৩০টির বেশি মামলা রয়েছে।
গোয়েন্দা দক্ষিণ বিভাগের কোতয়ালী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ সাইফুর রহমান আজাদ বলেন, গ্রেফতারকৃত হান্নান ও তার সহযোগীরা মূলত টানা দলের সদস্য।

১০ মে দুপুরে ন্যাশনাল ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে টাকা নিয়ে যখন ব্যাংকের একজন নির্বাহী কর্মকর্তা ও একজন সিকিউরিটি গার্ড ইসলামপুর শাখায় টাকা আনতে উপরে উঠেন, তখন একজন সিকিউরিটি গার্ড ও মাইক্রোবাসের ড্রাইভার গাড়িতে ছিলো।

এ সুযোগে হান্নানসহ তার অপর সহযোগীরা সেখানে এসে সিকিউরিটি গার্ড ও মাইক্রোবাসের ড্রাইভারের সঙ্গে ভাব জমিয়ে বিভিন্ন ধরণের কথা-বার্তা বলতে থাকেন।
তিনি বলেন, টাকা আনতে দেরি হচ্ছে দেখে তারা গাড়ির ড্রাইভারকে উপরে পাঠায়। ড্রাইভার উপরে উঠলে হান্নানের সহযোগীরা সিকিউরিটি গার্ডকে বিভিন্ন কথা-বার্তায় অন্যমনস্ক রাখে। আর হান্নান গাড়ির দরজা খুলে টাকার বস্তা নিয়ে কোনো দিকে দৃষ্টিপাত না করে রিকশা নিয়ে আরমানি টোলায় একটি বাসায় চলে যায়।
পরবর্তী সময়ে তার সহযোগীদের ২৫ হাজার করে টাকা দিয়ে বাকি টাকা সে নিজের কাছে রেখে দেয় এবং বিভিন্নভাবে তা খরচ করতে থাকে।


মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে গেন্ডারিয়া ও যাত্রাবাড়ী থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সুত্র: না/বা


শেয়ার করুন

0 Please Share a Your Opinion.: