Tuesday, 2 June 2020

৭২ বছর বয়সী নুরুল আলম বসবাস করেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়- উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়া এলাকায় তাকে মারধর করছেন কয়েকজন যুবক


। কিল-ঘুষি মেরে তার পরনের লুঙ্গি-গেঞ্জি টেনে ছিঁড়ে ফেলছেন, সঙ্গে চলছে অকথ্য গালাগালি।

এ ঘটনার নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সন্ত্রাসী আনছুর আলম ও তার সহযোগীরা। আলমের ছেলে আশরাফ হোসাইন এ ঘটনায় বাদী হয়ে চকরিয়া থানা একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার আমলে নিয়ে ঘটনার তদন্ত করছে থানা পুলিশ।

মামলার আসামিরা হলেন- ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়া এলাকা বদিউল আলম (৫৫) ও তার ছেলে মিজানুর রহমান (২৮), আনছুর আলম (৩৫), শাহ আলম (৫২) ও তার স্ত্রী আরেজ খাতুন (৪৮), রিয়াজ উদ্দিন (৩২), জয়নাল আবেদিন (৩০) এবং মো.রুবেল (২৮)।

নুরুল আলমের ছেলে আশরাফ হোসাইনের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৪ মে তার বাবা নুরুল আলম ঈদের বাজার করে ঢেমুশিয়া স্টেশন থেকে টমটম গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে আনছুর আলমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী টমটম থেকে তার বাবাকে নামিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পরনের লুঙ্গি- গেঞ্জি ছিঁড়ে ফেলে। তাকে কিল-ঘুষি দিয়ে মারধর করে। অকথ্য গালি-গালাজও করে তারা। এলাকার কয়েকজন যুবক এ ঘটনা মোবাইলে ধারণ করে। তার বাবা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকে।

এজাহারে আরও বলা হয়, এ ঘটনা জানার পর তার ছোট ভাই সিএনজি চালক সালাহউদ্দিন স্থানীয় লোকজনসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বাবাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। বাদি এজাহারে দাবি করেন, ঘটনার সময় তার বাবার ব্যবহৃত একটি মোবাইল সেট ও পকেটে থাকা নগদ সাড়ে সাত হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা।

কী ছিল ভিডিওটিতে-

১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়- নুরুল আলমকে প্রথমে চড় থাপ্পড় দিচ্ছেন আনছুর আলম। এ সময় তার অন্যান্য সহযোগীরা আশপাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিল। এক পর্যায়ে নুরুল আলমের লুঙ্গি খুলে ফেলেন তিনি। এ সময় বাধা দিতে গেলে তার গেঞ্জি টেনে ছিঁড়ে ফেলেন আনছুর আলম। এরপর অনবরত তাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। আনছুরকে নুরুল কিছু একটা বোঝাতে চাইলেও তিনি মানছিলেন না। আঙুল তুলে শাসিয়ে গালি-গালাজ করে কথাবার্তাও বলেন আনছুর আলম।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আশরাফ হোসাইন বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে আমার বাবার উপর অমানবিক ঘটনাটি ঘটিয়েছে সন্ত্রাসী আনছুর আলম।’ তার দাবি, আনছুর আলম স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। এমন কোনো অপকর্ম নেই যা সে করে না।

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে প্রশাসনের কাছে বিচারও দাবি করেছেন আশরাফ হোসাইন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম জিকু বলেন, ‘তুচ্ছ একটি ঘটনার জের ধরে এমন অমানবিক আচরণ করা হয়েছে বয়স্ক নুরুল আলমের সাথে। তিনি এই এলাকার বয়োবৃদ্ধ। সবাই ওনাকে খুব সম্মান করে। এলাকার কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী ঘটনাটি ঘটিয়েছে। বিষয়টি আমাকে জানানোর পর থানায় মামলা করার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।’

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে আনছুর আলমের মোবাইলে কয়েকবার ফোন করা হয়। তবে নম্বরটি বন্ধ ছিল।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে আশরাফ হোসাইন একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। সেটি অবশ্য আমার হাতে এসে পৌঁছেনি। তবে ঘটনা তদন্তপূর্বক দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।’

চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী মো. মতিউল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টা আমি ফেসবুকে দেখেছি। যারা এই ভিডিওটি ফেসবুকে আপলোড করেছে- মোটেও ভালো কাজ হয়নি। ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি ওসিকে নির্দেশ দিয়েছি। যারা এই ঘটনাটি ফেসবুকে ভাইরাল করেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


শেয়ার করুন

0 Please Share a Your Opinion.: