Monday, 8 June 2020

অস্তিত্বহীন ৮ মসজিদের নামে প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দ দেয়া টাকা আত্মসাৎ



মিঠাপুকুরে ভুয়া মসজিদ ও ইমাম-সভাপতির নাম দিয়ে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু একটি ইউনিয়নেরই আটটিরও বেশি মসজিদের ভুয়া নাম ব্যবহার করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ইউএনও বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

ইউএনও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে সারাদেশের মতো মিঠাপুকুর উপজেলার এক হাজার ১৬২টি মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের জন্য ৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ হয়। ঈদের আগেই এসব মসজিদের নামে বরাদ্দের টাকা সভাপতির মাধ্যমে ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে বিতরণ করা হয়। কিন্তু অনেক স্থানে মসজিদ, সভাপতি ও ইমামের ভুয়া নাম ব্যবহার করে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ভুয়া মসজিদের নামে টাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে।

বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, একটি প্রতারক চক্র এই ইউনিয়নের ৮টি মসজিদের ভুয়া নাম দিয়ে টাকা উত্তোলন করে গা ঢাকা দিয়েছে। এর মধ্যে ৪টি মসজিদের সভাপতি এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনের ভুল নাম ও মোবাইল ফোন নম্বর দেওয়া হয়। মসজিদগুলো হলো- পুর্ব খিয়ারপাড়া নামাজঘর মসজিদ, মধ্য খিয়ারপাড়া ওয়াক্তিয়া মসজিদ, নতুন খিয়ারপাড়া জামে মসজিদ, ফকিরপাড়া ওয়াক্তিয়া মসজিদ। এছাড়া ৪টি মসজিদের ভুয়া নাম বরাদ্দের তালিকায় ব্যবহার করে প্রতারক চক্র। সেই সঙ্গে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি, ইমাম ও মুয়াজ্জিনেরও ভুয়া নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো হলো- বালুয়া গোডাউন নামাজ ঘর, বালুয়া পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ, চাঁনটারী চর ওয়াক্তিয়া মসজিদ ও ভাটারপাড়া নামাজ ঘর।

বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম চৌধুরী বলেন, ‘যারা মসজিদের ভুয়া নাম ব্যবহার করে টাকা আত্মসাৎ করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

ফকিরপাড়ার আরিফুল ইসলাম লুলু বলেন, ‘এখানে যে মসজিদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, ওই নামে কোনো মসজিদ নেই।’ মধ্য খিয়ারপাড়ার বুলবুল হোসেন এবং ভাটারপাড়ার বাদল মিয়াও জানালেন, তাদের এলাকায় বরাদ্দ হওয়া মসজিদের নাম বাস্তবে নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকে অভিযোগ করেন, বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল হকের ছত্রছায়ায় তার ঘনিষ্ঠ কোরবান আলী ও সেকেন্দার আলী জামে মসজিদ ও ওয়াক্তিয়া নামাজ ঘরের ভুয়া নাম, সভাপতি ও ইমাম-মুয়াজ্জিনের নাম ও মোবাইল ফোন নম্বর ভুল দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে, কোরবান আলী ও সেকেন্দার আলী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে বালুয়ামাসিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, ‘মসজিদের তালিকার দায়িত্ব ইসলামি ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের। তাদের তালিকায় অনেক ভুল ছিল।’ তার ঘনিষ্ঠদের এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন ইউপি চেয়ারম্যান।

ইসলামি ফাউন্ডেশনের মিঠাপুকুর উপজেলার কেয়ার টেকার রফিকুল ইসলাম জেহাদী বলেন, ‘ওই এলাকার তালিকা তৈরির দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।’

মিঠাপুকুরের ইউএনও মামুন ভুঁইয়া বলেন, ‘এ ধরনের একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শীর্ষ নিউজ


শেয়ার করুন

0 Please Share a Your Opinion.: