Sunday, 7 June 2020

ওমানে বাংলাদেশি মরলেও লাশ দেশে নেয় না।অসহায় প্রবাসীরা।


ওমান থেকে বিভিন্ন দেশের অনেক নাগরিক কে সরিয়ে নিয়েছে শুধু বাংলাদেশীরা বাদে! কারণ বাংলাদেশীরা তো করোনার বস্তা!

ওমানে করোনার মহামারীর এসময়ে যে সকল ভারতীয়রা দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক তাদের সরকার তাদের জন্য আলাদা বিমান দিয়ে দেশে নিয়ে যাচ্ছে!

পাকিস্তানও তাদের দেশের অনেক নাগরিক কে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিকেরা দেশে যাওয়া যাবে না কারণ দেশে গেলে তো এদের রেমিট্যান্স দেওয়া টা কমে যাবে

তাই সরকারের ভাষ্য হলো তোমরা প্রবাসীরা যে যেখানে আছো সেখান থেকে একটা টাকা পাঠালেও সরকারের লাভ হচ্ছে এজন্য তোমরা প্রবাসীরা চিন্তায় স্টোক করে মরো বা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মরো তাতে দেশের সরকারের কিছু যায় আর আসে না।

কারণ তুমি একজন মরলে তাতে কার কি যায় আসে এজন্য বাংগালী মরলেও কারো কোন মাথা ব্যথা নাই!

ওমান প্রবাসীদের ভাগ্য খারাপ এজন্য না খেয়ে মরলেও দেশে যাওয়া সম্বব নই! গত কয়েকদিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ মাধ্যম করে বলেছিলো দেশে না যাওয়ার জন্য কিন্তু এখানে না খেয়ে আছে তার কোন খবর আমাদের সরকার নিলো না!

উন্নত দেশ হিসাবে ভারতের কথা বাদই দিলাম আর পাকিস্তানের কথা বলি, পাকিস্তান তো বাংলাদেশ থেকেও গরীব একটা দেশ তাহলে তারা যদি তাদের দেশের নাগরিক কে ফিরিয়ে নিতে পারে তাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসাবে খ্যাতি পাওয়া বাংলাদেশ তাহলে কি পাকিস্তান থেকেও পিছিয়ে আছে!

আমরা তো শুধু নামেই ডিজিটাল কিন্তু কাজেকর্মে এখনো মীর জাফরের বংশধর রয়ে গেছি! ওমানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে অনেক বাংলাদেশী ভাইয়েরা মারা গেছে কিন্তু তাদের ভাগ্যে বাংলাদেশের মাটি টুকুও কপালে জুটে নাই এতে আমাদের সরকারের কিছু করার নাই তাই চুপ করে আছে!

একজন প্রবাসী যখন মরবে তার আগে সে শেষ ইচ্ছে হিসাবে অন্তত দেশের মাটি টুকু সে চাইবে কিন্তু আমাদের সরকার চাই যে লোক যে দেশে মরবে তাকে সে দেশে মাটি দিয়ে দাও।

আর সরকারের চামচা বাহিনীর যদি কেউ বিদেশে মরতো তাকে একটা বিশেষ বিমান ভাড়া করে দেশে নিয়ে আসে আর আমরা প্রবাসীরাও তো একেক টা প্রবাসী একেকজন মায়ের সৈনিক তাহলে আমাদের কে কেন এত অবহেলা?

কেন আমার ভাইয়েরা মরলেও দেশের মাটি পাই না? একটা রেমিট্যান্স যোদ্ধার সারা জীবন রেমিট্যান্স ভোগ করেছেন আজ ফলস্বরূপ হিসাবে তাকে দেশের মাটিটাও দিলেন না! আর জীবিত অবস্থায় দেশে যাওয়ার জন্য পাগলের মতো করে এদিকওদিক ঘুরাঘুরি করেও দেশে যাওয়ার কোন পথ না পেয়ে বিদেশে মরে গেলো আর বিদেশেই দাফন করে দিলো! এটাই কি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের শাস্তি!

একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা মারা গেলে একটা পরিবারের আশার আলো নিভে যায়! একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা মারা গেলে একটা বউ এর সপ্ন ভেঙে যায়! একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা মারা গেলে একটা মায়ের বুক খালি হয়ে যায়!

একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা মারা গেলে একটা বাবার আশা ভরসা সবটুকু বন্ধ হয়ে যায় আর এত গুলো আশা নিয়ে একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রতি নিয়তই যুদ্ধ করে কিন্তু আমাদের এই রেমিট্যান্স দেওয়ার যোদ্ধা গুলো মরলেও কারো দেখার সময় টুকু নাই!
এই করোনায় ওমানের কত প্রবাসী মারা গেলো কারো ভাগ্যে দেশের মাটি টুকুও জুটে নাই!

কাল যদি দূর্ভাগ্য বশত আপনিও মরেন তাহলে আপনাকেও এই পাথরের ভিতরেই দাফন করে ফেলবে! পাথরই হবে আপনার শেষ ঠিকানা! আর এটাই হবে রেমিট্যান্স দেওয়ার মূল শাস্তি!



শেয়ার করুন

0 Please Share a Your Opinion.: