Wednesday, 10 June 2020

আমি কাঁচের পাহাড় তৈরী করিনি পাথরের পাহাড় তৈরী করেছি ভাংবে না।এম পি পাপুল

গত মার্চে মানব পাচারের অভিযোগ উঠলে গা ঢাকা দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসে লাইভে এসে দম্ভ করে পাপলু বলেছিল- আমি কাঁচের পাহাড় তৈরি করিনি, আমি পাথরের পাহাড় তৈরি করেছি... এটা ভাঙবে না, কেউ ভাঙতে পারবে না।

সেই দম্ভ ভেঙে পড়তে শুরু করেছে____

করোনার মধ্যে শুধু কুয়েত থেকেই দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে। এই কর্মীদের বড় একটি অংশই কুয়েত গিয়েছিলেন অর্থ ও মানবপাচারে অভিযুক্ত এমপি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের কোম্পানির মাধ্যমে। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে নেয়া হয়েছিলো ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কুয়েত গিয়ে চাকরি তো দূরে থাক, কোনরকম জীবন নিয়ে শূন্যহাতে ফিরেছেন তারা। কুয়েত সিআইডি এইসব ভুক্তভোগীদের জবানবন্দী নিয়ে মাঠে নেমেছে। রিমান্ডে নিয়েছে এমপি পাপুলকে। ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, পাপুলের সাথে ফেঁসে যেতে পারেন স্থানীয় কয়েকজন দূতাবাস কর্মকর্তাও।

আরব টাইমসের প্রতিবেদনে আগে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের ওই সংসদ সদস্য নিয়মিত কুয়েতে আসা-যাওয়া করলেও সেখান ৪৮ ঘণ্টার বেশি থাকেন না। কুয়েতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না।
আল কাবাস থেকে উদ্ধৃত করে আরব টাইমস পরে আরেক প্রতিবেদনে লিখেছে, কুয়েত সরকারের কাজ পেতে কর্মকর্তাদের পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ি ঘুষ হিসেবে দিয়েছেন বাংলাদেশের ওই এমপি। তিনি তার সম্পদের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিয়ে এক মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ব্যবসা শুরু করেছেন।
এমপি পাপুলকে নিয়ে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ওই সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন বলেছিলেন, এমপির বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ ফেইক নিউজ। রাজনীতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার যদি তখনই এই দুর্নীতিবাজ এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতো তাহলে আজ দেশের সুনাম নষ্ট হয় না। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকেরা পাপুলের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা বখশিস নেয়ার কারণেই তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

৫ বাংলাদেশী পাপলুর অপকর্ম নিয়ে আদালতে মামলা ঢুকে দিয়েছে। আদালত তাদের জবানবন্দী নিয়েছে। গ্রেফতারের পরে জামিন নাকচ করে হেলে পাঠিয়েছে পাপলুকে- পরে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। _____কুয়েত থেকে ইনবক্সে পাওয়া তথ্য মতে বিনা ভোটের অবৈধ এমপি শহীদ নামা।
==========================
লক্ষীপুরের মিডনাইট এম পি সহিদ ইসলাম পাপুল কুয়েতে ম্যান পাওয়ার সাপ্লাই এর ব্যবসা করেন। তার কোম্পানির নাম মারাফি কুয়েতিয়া জেনারেল ট্রেডিং এন্ড কন্ট্রাক্টিং কোং। এখানে তিনি সিইও এবং এমডি। বিগত ৫ বছরে তার কোম্পানি বেশ কিছু সরকারি কন্ট্রাক্ট পেয়েছে। কুয়েত সরকার সকল শ্রমিকের ভিসা ফ্রি দিয়েছে কিন্তু এই পাপুল প্রত্যেকটা ভিসার জন্য ২০০০ দিনার (৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা) নিয়েছে। কুয়েতের রাষ্ট্রদূত আবুল কালামও পাপুলের সাথে ভিসা'র ব্যবসা করেছে। গত বছর কুয়েতের আমির দূর্নীতির কারণে সম্পুর্ণ ক্যাবিনেট বরখাস্ত করেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী খুবই ক্লিন ইমেজের মানুষ। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পাপুলসহ আরও অনেক ভিসা ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করেছেন। পাপুল ৭ জুন কোর্টে জামিনের আবেদন করলে তার আবেদন নাকচ করে জেলে প্রেরণ করা হয়।
পাপলুর কোম্পানির শ্রমিকদের সে সঠিক বেতন দেয় না। ব্যাংকে বেতন ৭৫ দিনার দিলেও পরে সুপারভাইজার শ্রমিকদের ভয় দেখিয়ে ৩০-৪০ দিনার ফেরত নিয়ে নেয়। বছরে ১ মাসের বেতনসহ ছুটি থাকলেও সে ছুটিকালিন বেতন দেয় না। শ্রমিকদের বিমানের টিকেটের টাকা আত্মসাৎ করে। কুয়েতে প্রতি বছর আকামা নবায়ন করতে সরকারি খরচ হেলথ ইন্স্যুরেন্সসহ ৬০ দিনার কিন্তু এই পাপুল শ্রমিকদের কাছ থেকে নেয় ১৫০ দিনার। কুয়েতে শ্রমিকদের রক্ত শোষণ করে সে দেশে দান করে। কুয়েতের গোয়েন্দা সংস্থা সকল তথ্য সংগ্রহ করে তাকে গ্রেফতার করে।

সংগৃহীত

শেয়ার করুন

0 Please Share a Your Opinion.: