Monday, 15 June 2020

ওমানে - প্রবাসী এক যুবকের আত্মহত্যা।

আহ্ প্রবাসী,চারদিকে শুধু হত্যা আর আত্মহত্যা!

ওমানে_ফটিকছড়ির_যুবকের_আত্নহত‍্যা
ভিডিও কলে মাকে শেষ দেখা দেখেই ফ্যানে ঝুললেন সাব্বির।

মাত্র দেড় বছর আগে ভাই এর হাত ধরে কর্মের তাগিদে ওমানে এসেছিলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির যুবক সাব্বির (২২)। এখানে কখনো হার্ডওয়ারের দোকান, আবার কখনো মাংসের দোকানে চাকরি করতেন।

বড় ভাই আর বাবাও থাকেন তার থেকে মাইল পাঁচেক দূরে। তবে, নিজের ভাই এর মাংসের দোকানে ভিসা ট্রান্সপার করার পক্রিয়া চলছিল। কিন্তু হঠাৎ নিজেই ঘুমানোর ঘরে ফাঁসিতে ঝুলে দুনিয়া থেকে বিদায় নিলেন সাব্বির।

আত্মহত্যার কারণ উদঘাটন করতে সরেজমিনে তার কর্মস্থল মাসকেটের আমরাতে গেলে কথা হয় তার সহকর্মী ও ঘনিষ্ট বন্ধু ফারুকের সাথে। ফারুক বলেন, সোমবার যথারীতি হার্ডওয়ার দোকানে ডিউটি করছিল সে । দোকান থেকে সন্ধ্যার একটু আগে বের হয়ে বাড়িতে ফোন করতে দেখি। তার মায়ের সাথে ভিডিও কল দিয়ে কথা বলে মুখ গম্ভীর হয়ে আমার কাছে রুমের চাবি চায়। বলল, বার্থরুমে যাবো, চাবিটা দাও।এর একটু পর অপর এক রুমমেট রুমে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়।

রুমে প্রথমে তার লাশ দেখতে পাওয়া গিয়াস উদ্দিন বলেন,ছেলেটি আমার দোকানে চাকরি করতো। কথাবার্তায় বেশ মজা করতো, মিশুক টাইপের ছেলে ছিল। মাগরিবের নামাজ পড়তে আমি দোকান থেকে বাসায় গেছি দরজা লক করা ছিল না। ডুকতেই ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পাই। পরে আমি তার ভাই ও বাবাকে বিষয়টি জানাই। 
পুলিশ এসে সুরতহাল তৈরী করে লাশ মর্গে নিয়ে যায়।
নিহত সাব্বিরের ভাই সাকিল বলেন,মৃত্যুর একটু আগেও আমাকে ফোন করে ভিসা ট্রান্সপারের ব্যাপারে কথা বলেছিল। আমি বলেছি, আরো এক মাস সময় লাগবে। সে বলেছিল, তাকে ট্রান্সপার না করে ভিসাটা দিয়ে আমার অপর এক ভাইকে দেশ থেকে আনতে।

আত্নহত‍্যার কারণ:-
যে ছেলে সকালেও হাসিখুশিতে দোকানে এসে ডিউটি করেছেন, সন্ধ্যায় আত্মহত্যা করলেন! এর নেপথ্য কি তা বের করা সম্ভব হয়নি। তার ভাইও কোন সঠিক অনুমান করতে পারছেন না। তার ঘনিষ্ট বন্ধু, সহকর্মী ফারুক বললেন, প্রেমঘটিত কোন ব্যাপারও নয়, এ ধরণের হলে সে অন্তত আমার সাথে শেয়ার করতো। তবে, সে একাধিক মেয়ের সাথে ফোনালাপ করতো তা জানতাম। তার ফেইসবুক ওয়ালেও কোন ধরণের ইঙ্গিত পাওয়া যায় নি।

©কপি পোস্ট

শেয়ার করুন

0 Please Share a Your Opinion.: