Saturday, 13 June 2020

করোনা রোগীর জন‍্য ফোন করলেই বাসায় পৌঁছে যাচ্ছে ফ্রি অক্সিজেন

ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ১২টায়। হঠাৎ বেজে উঠল মোবাইল ফোন। অপরপ্রান্ত থেকে কান্নাজড়িত এক যুবক দাদীকে বাঁচাতে অক্সিজেন সার্ভিস পেতে চায়। কল গ্রহণকারী সময়ক্ষেপণ না করেই গভীর রাতে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেন ওই বৃদ্ধার বাসায়।

অক্সিজেন সাপোর্ট পেয়ে বর্তমানে কিছুটা সুস্থ ওই নারী।

এভাবে করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের ফ্রি অক্সিজেন সার্ভিস দিচ্ছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগ নেতা নিজাম উদ্দিন তনি। করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু যে কেউ ফোন করলেই বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে ফ্রি অক্সিজেনের বোতল।

ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতা নিজাম উদ্দিন তনি বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত হয়ে যারা মুমূর্ষু অবস্থায় চলে যায় তাদের জীবন বাঁচাতে অক্সিজেনের খুবই প্রয়োজন।

কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে চট্টগ্রামে অক্সিজেন সোনার হরিণ হয়ে উঠেছে। তাই মানুষের জীবন বাঁচাতে ফ্রি অক্সিজেন সার্ভিস চালু করেছি। করোনা আক্রান্ত যে কেউ ফোন করলে বিনামূল্যে বাসায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে অক্সিজেনের বোতল। ’

তিনি বলেন, ‘মানুষের পাশে থাকার এসময় এখনই। মানুষের পাশে থাকার প্রচেষ্টা থেকে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

মানুষের পাশে থাকার প্রচেষ্টা থেকে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ’

জানা যায়, চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত মধ্যে উল্লেখযোগ্য রোগী মারা গেছেন শুধুমাত্র অক্সিজেন সার্পোটের অভাবে। এমনকী শ্বাসকষ্টের কারণে অনেক হাসপাতালে রোগীদের ভর্তিও করা হচ্ছে না। এসব খবর শুনে বিবেক নাড়া দেয় চট্টগ্রামের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতা নিজাম উদ্দিন তনি’র। সংকটপন্না রোগীদের ফ্রি অক্সিজেন সার্ভিস দিতে উদ্যোগ নেন। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি সিলিন্ডারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেন। চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে সেবার পরিধিও বাড়াচ্ছেন তিনি।

দিন-রাত যে কোনো সময় ফোন পাওয়ার সাথে সাথে বাসায় পৌঁছে দিচ্ছেন ফ্রি অক্সিজেন সিলিন্ডার। নিজে এবং আরও কিছু স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্যে রোগীয় বাসায় বাসায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও সরঞ্জাম।

নিজাম উদ্দিন তনি বলেন, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত তহবিল থেকে যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা হচ্ছে। ফোন করলেও ঘরে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে অক্সিজেন বোতল। সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে বিনিময়ে কোন অর্থ নেয়া হয় না।

ফ্রি অক্সিজেন সেবা গ্রহণকারী মহিউদ্দিন বেলাল রনি নামে একজন বলেন, করোনা আক্রান্ত আমার মামার জন্য অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে। কোথাও অক্সিজেন পাচ্ছিলাম না। এসময় তনিকে ফোন করি। ফোন পেয়ে তিনি সাথে সাথে বাসায় পৌঁছে দেন অক্সিজেনের বোতল। অক্সিজেন গ্রহণের পর থেকে উনার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

শেয়ার করুন

0 Please Share a Your Opinion.: