Sunday, 21 June 2020

ভালুকায় স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা,গ্রেফতার ২




ভালুকায় অজ্ঞাত যুবতির লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে,ধর্ষণ করে ও হত্যা করা হয়েছে
[ভালুকা ডট কম : ১৮ জুন]
ভালুকা উপজেলার খারুয়ালী এলাকার ক্ষীরু নদী থেকে উদ্ধার যুবতীর লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ২জনকে আটক করেছে। আটককৃতরা বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহ বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ধারা স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দি দিয়েছে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানাযায়,কানিজ ফাতেমা (১৭),উপজেলার মামারিশপুর গ্রামের ওমর ফারুকের মেয়ে। তিনি হালিমুন নেছা চৌধুরানী মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে অকৃতকার্য হয়। এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দুই দিনের পর নানীর বাড়িতে ভালুকা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে বেড়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। হত্যার ১১দিন পর রোববার (১৪জুন)খীরু নদী থেকে পুলিশ তাঁর অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করে।

থানা সূত্রে জানাযায়,গত ৩জুন তারিখ রাত ৮টার সময় কানিজ ফাতেমা ভালুকা বাজার হতে বাড়িতে যাওয়ার পথে ভালুকা পৌরসভার ০৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জহির হোসেনের ছেলে মনির হোসেন (২৩) ও আইয়ুব আলী শেখের ছেলে জামাল হোসেন (২৫) তাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভালুকা পৌরসভার ০২ নং ওয়ার্ডের ক্ষিরু নদী সংলগ্ন আজিজুল হকের বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বাগানের ভিতর ফাঁকা জায়গায় নিয়ে স্কুল ছাত্রী কানিজ ফাতেমাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ৪/৫জন মিলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় পালক্রমে ধর্ষণের এক পর্যায়ে কানিজ ফাতেমা ডাক চিৎকার শুরু করিলে মনির ও জামাল অন্যান্য আসামীরা বেল্ট দিয়ে ভিকটিমের গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে নিহতের হাত-পা বেঁধে ক্ষিরু নদীতে ফেলে দেয়। গত রোববার রাতে নিহতের বাবা ওমর ফারুক খবর পেয়ে থানা এসে নিহতের পরনে কাপড় চোপড় দেখে লাশ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।ওই মামলায় ভালুকা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ খোরশেদ আলম,মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস,আই রঞ্জণ কুমার ভৌমিক বুধবার রাতে কাঁঠালী গ্রাম থেকে মনির হোসেন ও মোঃ জামাল হোসেনকে গ্রেফতার করেন। পরে ওই আসামীদ্বয় ময়মনসিংহ বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যার ঘটনায় স্বীকরোক্তিমূলক জবান বন্দি দেয়।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভালুকা মডেল থানার এসআই ইকবাল হোসেন বলেন, গত ৩ জুন রাত ৮টার দিকে ভালুকা বাজার থেকে বাড়ীতে যাওয়ার সময় বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের আজিজুল হক নামের এক ব্যক্তির বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বাগানে নিয়ে যাওয়া হয় কানিজকে। সেখানে মনির,জামালসহ আরও তিনজন মিলে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে মেয়েটি চিৎকার শুরু করলে মনির তাঁর কোমরের বেল্ট খুলে কানিজের গলায় প্যাঁচ দেয়। এতে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যায় মেয়েটি। পরে হাত-পা বেঁধে লাশ ফেলে দেওয়া হয় খীরু নদে।

জানতে চাইলে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মাইন উদ্দিন বলেন, তিন দিনের মধ্যেই একটি অজ্ঞাত লাশের রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে কানিজ ফাতেমার ব্যবহৃত মোবাইলের সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে রয়েছে


শেয়ার করুন

0 Please Share a Your Opinion.: