Wednesday, 17 June 2020

ক‍্যাশপ:-কেরিয়ার নষ্ট করার জন্যে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন সলমান খান ও তাঁর পরিবারকে

সুশান্ত সিং রাজপুতের (Sushant Singh Rajput) আত্মহত্যা ঘিরে উঠেছে বিতর্কের ঢেউ। সমানে চলছে নানা বিষয়ে তরজা। কঙ্গনা রানাওয়াত, রজত বারমেচার মতো বেশ কিছু সেলেব সরাসরি আক্রমণ করেছেন বলিউডকে। তাঁদের অভিযোগ ফাঁকা সহানুভূতি দেখিয়ে এখন আর কোনও লাভ নেই। এবার বলিউডের একাংশের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন পরিচালক অভিনব কাশ্যপ (Abhinav Kashyap)। অভিনবের নিশানায় সলমান খান (Salman Khan) ও তাঁর পরিবার। কড়া ভাষায় লেখা একটি পোস্টে তিনি অভিযোগ করেছেন সলমান খান তাঁর কেরিয়ারের বিরুদ্ধে সাবোতাজ করেছেন।

অভিনব কাশ্যপ লিখেছেন, সরকারের কাছে আমার অনুরোধ, সুশান্তের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক। শান্তিতে থেকো এবার তুমি সুশান্ত সিং রাজপুত... কিন্তু তোমার শুরু করা লড়াই এখনও শেষ হয়নি। সুশান্তের আত্মহত্যা সামনে নিয়ে এল এক বড় সমস্যাকে, যার মধ্যে দিয়ে আমরা অনেকেই যাচ্ছি। ঠিক কী ঘটলে একজন মানুষ এভাবে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন? আমার ভয় হচ্ছে... ওঁর মৃত্যু হিমশৈলের শিখরমাত্র। ঠিক যেমন #MeToo অন্দোলনে তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল বলিউড। সুশান্তের মৃত্যু যশ রাজ ফিল্মস-এর ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট এজেন্সিকেও কাঠগড়ায় এনে দাঁড় করাচ্ছে। দেখতে হবে তাদের জন্যেই এভাবে খাদের কিনারায় গিয়ে সুশান্তকে দাঁড়াতে হয়েছিল কি না।

আমার নিজের অভিজ্ঞতাও এর চেয়ে আলাদা কিছু নয়। আমাকেও এক্সপ্লয়েট এবং বুলি করা হয়েছে। শুরু করেছিলেন দাবাং-এর সেটে আরবাজ খান। দাবাং-এর ১০ বছর পর এই হল আমার কাহিনী। দাবাং ২ থেকে সরে যেতে আমি বাধ্য হয়েছিলাম কারণ আরবাজ খান এবং সোহেল খান আমার কেরিয়ারকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছিলেন। আরবাজ খানের তত্‍পরতায় শ্রী অষ্টবিনায়ক ফিল্মসের সঙ্গে করা আমার চুক্তি ভেস্তে যায়, কারণ তিনি রাজ মেহতাকে ফোন করে হুমকি দিয়েছিলেন।

স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, আমাকে তিনি কাজ দিলে ভবিষ্যতে ভুগতে হবে। এখানেই শেষ নয়, আমার ছবি BESHARAM নিয়েও কম জল ঘোলা করেননি সলমান খান ও তাঁর পরিবার। এতটাই নেগেটিভ পাবলিসিটি করিয়েছিলেন যে ডিসট্রিবিউটাররা আমার ছবি কিনতে ভয় পেয়েছিলেন। সেই সময়ে রিল্যায়েন্স এন্টারটেনমেন্ট সাহস করে এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাতেও হাল ছাড়েননি আমার শত্রুরা। যতদিন না বক্স অফিসে ছবিটি মুখ থুবড়ে পড়েছে, ততদিন নেগেটিভ ক্যাম্পেন চালিয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। তবুও বক্স অফিসে ৫৮ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল ছবিটি। এর পর বেশ কিছু বছর ধরে আমার একের পর এক প্রজেক্ট নষ্ট করে দেওয়া হয় এবং আমাকে নিয়মিত খুনেক হুমকি দেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়। আমার পরিবারের মেয়েদের কাছে আসতে থাকে ধর্ষণের হুমকিও।

সেই সময়ে চূড়ান্ত মানসিক অবসাদের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলাম। ২০১৭ সালে যার জেরে আমার বিয়েও ভেঙে যায়। আমি সব রকম প্রমাণ নিয়ে পুলিশে FIR করতে গেলে তাঁরাও অভিযোগ দায়ের করেননি। পরে অনেক চেষ্টায় শুধুমাত্র নন-কগনিজেবল অভিযোগ দায়ের করা হয়। আজও সেই মামলা একই জায়গায় পড়ে রয়েছে। আমার কাছে আজও সব তথ্য প্রমাণ রয়েছে। প্রতিবার পিছন থেকে আমার শত্রুরা আঘাত করেছে। তবে ১০ বছর পর সেই মুখগুলো চিনতে আর কোনও অসুবিধে হয় না। আমার চরম শত্রুদের নাম সলিম খান, সলমান খান, আরবাজ খান এবং সোহেল খান। তাঁদের হাতে অর্থ, রাজনৈতিক কানেকশনে এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যথেষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে, যার জোরে এই সব কাজ করে চলেন দিনের পর দিন। কিন্তু আমি হার মানতে নারাজ। এর শেষ দেখে তবে ছাড়ব। অনেক সহ্য করেছি, এবার যুদ্ধে নামতেই হবে। না কোনও হুমকি নয়, আমি সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছি। সুশান্ত সিং রাজপুত এই সব ছেড়ে চলে গিয়েছেন। প্রার্থনা করছি, তিনি যেখানেই থাকুন একটু শান্তি পান এবার। তবে আমি শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাবো, যাতে আর কোনও নিরীহকে বলিউডে প্রাপ্য মর্যাদা না পাওয়ার যন্ত্রণায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে না হয়।.... না, আত্মহত্যা আমি করব না, তবে যদি আমার সঙ্গে খারাপ কিছু হয়, সারা দেশ জানুক কারা তার জন্যে দায়ী। হ্যাঁ, এটাই আমার পুলিশ স্টেটমেন্ট।


শেয়ার করুন

0 Please Share a Your Opinion.: