Friday, 14 August 2020

কাতারে নিজেরাই নষ্ট করতে চলছে ৫ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশির সুখের নিবাস


-উপসাগরীয় দেশ কাতারের মসজিদ এবং ধর্মীয় সেন্টারগুলোর বেশি’রভাগেই চাকরি করছেন বাংলাদেশি ইমাম এবং মো’য়াজ্জে’নরা। তাদের সংখ্যা প্রায় এক লক্ষের চেয়ে বেশি। সব মিলিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশি ছোট্ট অথচ সম্পদশালী দেশ কাতারে বাস কর’ছেন। তা’রা অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় খা;রাপ নেই সেখানে। কাতারি সরকার এবং জনগণ এখননও বাংলাদেশিদের খুব ভালো চোখেই দেখে কিন্তু নানান ঘটনা বিশ্লেষণ করে মনে হচ্ছে যে কাতারে প্র’বাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের বি;পদ নিজেরাই ডেকে আ’নছেন। অথচ এই উপসাগরীয় দেশটিতে বাংলাদেশিদের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। প্রায় ৫ লক্ষ বাংলাদেশির মধ্যে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পরিকল্পনাবিদ, শিক্ষক, ইমামরা এখা’নে মাথা মাথা উঁচু করেই অন্যান্য দেশিদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে আছেন।অনেকে অসাধারণ কাজ দেখাচ্ছেন যা কাতারের শা;সকদের চোখে শ্রদ্ধা জাগাচ্ছে বাংলাদেশি’দের নিয়ে। যেমন, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান কাতারের জন্ম ইতিহাস পাল্টে দিয়েছেন। তিনি গবেষণা করে প্রমাণ করেছেন যে কা’তার কখনও প;রাধীন ছিল না। তাই ১৯৭১ সনে দেশটি স্বাধীন হয়েছিল বলে যে ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয়ে আছে- এটা সঠিক ইতিহাস নয়। বিশ্বখ্যাত কাতা’রের আল জাজিরা টিভির লোগো বাংলাদেশি হাতেই তৈরি।সম্পদশালী দেশটিতে এই যখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবস্থান তখন সেখানে বাংলাদেশিরাই আ;ত্মঘাতি হয়ে নতুন সং;কট তৈরি করছেননিজেদের জন্য। বাংলাদেশ থেকে মা;দক পা;চার করতে গিয়ে কাতারি বিমানবন্দরে ধ;রা পড়ছেন অনেক বাংলাদেশি। এই মুহূর্তে ১৫২ জন বাংলাদেশি মা;দক পা;চারের দা;য়ে কা;রাগারে রয়েছেন এ ছাড়া কাতারের তিনটি কা;রাগারে নানা অ;পরাধে ব;ন্দি আছেন ২৩২ জন বাংলাদেশি। অতি সম্প্রতি কয়েক কেজি গাঁ;জাসহ দুই বাংলাদেশি ধ;রা পড়ার ঘ;টনায় ন;ড়েচড়ে বসেছে প্র;শাসন। চেক জা;লিয়াতি, ভিসা জা;লিয়াতি, অ;পহর’ণ, সদর রাস্তায় ডা;কা’তির সঙ্গেও বাংলাদেশিরা জড়িত রয়েছেন- দুঃ;খজনক হলেও এসব অনেকটা গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মা;দক ব্যবসার সঙ্গে বাংলাদেশিরা জড়িয়ে পড়ায় এখানকার দূতাবাসও অনেকটা বি;ব্রত, উ;দ্বিগ্ন। কারণ, মা;দক পা;চারের বিষয়টি খুবই ক;ঠোর দৃষ্টিতে দেখা হয় এখানে।চলমান এই সমস্যা প্রসঙ্গে কাতারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতে কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রেমিটেন্সের দিক থেকেও আমরা উপরে। লোকসংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে- মাদক বিষ’য়ক অ;প’রাধে জ;ড়িয়ে যাওয়ায় ভা;বমূর্তির একটা সং;কট তৈরি হচ্ছে। দেশ থেকে যখন বাংলাদেশিরা আসছে তাদের অনেকের কাছে পাওয়া যাচ্ছে গাঁ;জা, ই;য়াবা, আ;ফিমসহ নানা ধরনের মা;দক। রাষ্ট্রদূত বলেন, এখানে আট লাখ ভারতীয়, ছয় লাখ নেপালি ও বাংলাদেশের চার লাখ প্রবাসী রয়েছেন।প্রবাসী পরিসংখ্যানের দিক থেকে তেলসম্পদে সমৃদ্ধ ও উন্নত উপসাগরীয় ক্ষুদ্র এই দেশ’টিতে বাংলাদেশিরা তৃতীয়। কিন্তু জেলখানায় বন্দিদের সংখ্যায় দেখা যায় বাংলাদেশিরা ফার্স্ট। মা;দক আটক সম্পর্কে আমরা যে কথাটা শুনি, বাংলাদেশিরা বলে থাকেন, ‘তাদে’রকে ফাঁ;সানো হয়েছে। ঢাকার এয়ারপোর্টে ধ;রা পড়ে না, এখানে এসে ধ;রা পড়ে।’- এমন বলা হয়ে থাকে। রাষ্ট্রদূতের মতে, ঢাকা বিমানবন্দরে ন;জরদারি জ;রু’রি। তা না হলে এই সং;কট বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে এক ক;ঠিন ঝুঁ;কির মধ্যে ফেলে দেবে।অবস্থা এমন চলতে থাকলে মালয়েশিয়া, কুয়েত, আমিরাতের মতো বাজে অবস্থা এখানেও তৈরি হতে পারে বাংলাদেশিদের জন্য- যা খুবই ক্ষতিকর হয়ে যাবে দেশ ও প্রবাসীদের জন্য।কাতারে বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, এমনিতে শ্রম’বাজার সংকটের মধ্যে রয়েছে। আমরা যদি আমাদের ভালোটা না বুঝি তাহলে বিপদ আসতে পারে যে কোনো সময়। কমিউনিটির পক্ষ থেকে আমরা সম্মিলি’তভাবে চেষ্টা করছি অ;পরাধের মাত্রা কমাতে। তিনি বলেন, মা;দক কীভাবে এদেশে আসছে তা দেখতে হবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমিউনি’টির তরফ থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাউন্সেলিং অন্যতম।গো;দের ওপর বি;ষেফোঁড়ার মতো বাংলাদেশ থেকে আসা নারীরাও এখন নানা অ;পরাধে জড়িয়ে গেছেন। এর মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নারীর সা;জা হয়েছে বিভিন্ন অ;পরাধে। শিল্পী আক্তার নামের একজনের যা;বজ্জীবন কা;রাদণ্ড হয়েছে হ;ত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জ;ড়িত থাকার অ;ভিযোগে। অ;পহরণ, চু;রি ও অ;নৈতিক ক;র্মকাণ্ডে লি;প্ত হওয়ায় বিভিন্ন মেয়াদে সা;জা হয়েছে অন্যদের।

মোটকথা প্রতিযোগিতা করে যেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে অ;পরাধ বাড়ছে। অ;পরাধের তা’লিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মাদারীপুর জেলার লোকজন শীর্ষে। এই দুই জেলা থেকে আগতদের সম্পর্কে এখানকার পু;লিশও বেশ স;তর্ক। ইতিমধ্যেই ‘ব্রাহ্মণ’ আর ‘মাদার’ এই দু’টি নাম তাদের কাছে বেশ পরিচিত হয়ে গেছে নে;তিবাচক অর্থে। যা দেশের ঐতিহ্যবাহী ওই দুই জেলাবাসী এবং বাংলাদেশি কারো জন্যই সুখকর নয়।

সবশেষে সবার জ্ঞাতার্থে বি;শেষ দ্রষ্টব্য তথ্য হচ্ছে, কাতারে জনশক্তি রপ্তানি ব;ন্ধ হয়নি, তবে সংখ্যায় কমেছে। দক্ষ জনশক্তির চাহিদা রয়েছে দেশটিতে। মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা কাতারে অনেকখানি। বাংলাদেশ ইচ্ছা করলে এই সুযো’গ নিতে পারে পুরোমাত্রায়

শেয়ার করুন

0 Please Share a Your Opinion.: