Sunday, 16 August 2020

লিবিয়ার জোয়ারা শহরের একটি গোডাউনে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে অপেক্ষমাণ থাকা ৬৬ জন অভিবাসীকে গত ১১ জুলাই আটক করেছে পুলিশ

লিবিয়ার জোয়ারা শহরের একটি গোডাউনে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে অপেক্ষমাণ থাকা ৬৬ জন অভিবাসীকে গত ১১ জুলাই আটক করেছে পুলিশ । আটককৃত অভিবাসীরা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নাগরিক। ধারণা করা হচ্ছে তাদের মধ্যে অন্তত ৫০ জন বাংলাদেশী রয়েছেন।

জোয়ারা পুলিশ ডিরেক্টরের এক বিজ্ঞপ্তিতে তাদেরকে স্থানীয় সফর জেলে হস্তান্তর করা হয়েছে জানিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে পাচারকারীর মূলহোতাকে আটক করা হয়েছে এবং এই ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

পাচারকারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরের বিভিন্ন উপকূল বিশেষত জোয়ারা হতে অভিবাসীদের ইউরোপের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করে থাকে। ইতিপূর্বে কোস্ট গার্ড কর্তৃক ভূমধ্যসাগর থেকে অভিবাসীদের নৌকা আটক করলেও সচরাচর এই ধরণের আটকের ঘটনা দেখা যায়না। ধারণা করা হচ্ছে লিবিয়ার জিএনএ সরকার ও মাল্টা সরকারের মধ্যে অবৈধ অভিবাসন সংক্রান্ত সম্প্রতি সম্পাদিত চুক্তির ফলশ্রুতিতে গোয়ান্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই ধরণের অভিযান চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে গেরাবলিসহ আরো কয়েকটি শহরে এই ধরণের অভিযানের খবর পাওয়া গেছে।

লিবিয়ায় তালাবদ্ধ করে বন্দি করে রাখা অভিবাসী

অন্যদিকে লিবিয়া উপকূল হতে ২০২০ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ গমনের প্রচেষ্টাকালে জুলাই মাস পর্যন্ত কোস্ট গার্ডের হাতে মোট ৬,৬১৯ জন বিভিন্ন দেশের অভিবাসী আটক হয়েছে। আটককৃত অভিসীদের মধ্যে লিবিয়ার পার্শ্ববর্তী দেশ সুদানের নাগরিক সর্বোচ্চ হলেও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশী। আইওএমের তথ্যানুযায়ী এবছরের জুলাই মাস পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর থেকে মোট ৮২৩ জন বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করা হয়েছে। কিন্তু আটককৃত অভিবাসীদের অধিকাংশকে সফর জেলে না নিয়ে অননুমোদিত ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় বলে ইতিপূর্বে আইওএম জানিয়েছে। সাধারণত এই সকল ক্যাম্প হতে অভিবাসীদেরকে পুনরায় পাচারকারীদের নিকট বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে আইওএম আশংকা প্রকাশ করেছে।

এই বিষয়ে কয়েকজন ভিক্টিমের সাথে কথা বলে সত্যতা পাওয়া গেছে। সাগর থেকে উদ্ধারের পর তাদেরকে সফর জেলে না নিয়ে অপহরণকারী চক্রের নিকট বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে চরম নির্যাতন সহ্যের পর মুক্তিপণ প্রদান করতে হয়েছে এবং এই চক্র তাদেরকে অন্য পাচারকারীর নিকট বিক্রি করে দিয়েছে। যারা পরবর্তীতে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে পুনরায় সাগরে যেতে বাধ্য করেছে। কিন্তু তারা আবারো কোস্ট গার্ডের নিকট আটক হয়েছে। এইভাবে চক্রের মধ্যে পড়ে কিছু সংখ্যক অভিবাসী সফল হলেও অধিকাংশ অভিবাসী চরম শারীরিক নির্যাতন সহ্য ছাড়াও তাদের পরিবার আর্থিকভাবে নি:স্ব হয়ে পড়ছে।

অনেকে পাচারকারী কর্তৃক প্রতারিত হয়ে লিবিয়ায় এসে করোনাভাইরাসের কারণে আটকা পড়ে এই পথে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে ধারণা করা যায়।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দূতাবাস ও আইওএম দেশে ফ্রি টিকেটে দেশে প্রেরণের কার্যক্রম শুরু করেছে। ফলে কোন প্রবাসীর অন্য কোন উপায় না থাকলে দূতাবাসে নিবন্ধন করে আইওএমের সাহায্যে দেশে চলে যেতে পারবেন। এই অবস্থায় সকল প্রবাসী সতর্ক হোন এবং মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দেওয়ার প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকুন



শেয়ার করুন

0 Please Share a Your Opinion.: