Monday, 3 August 2020

টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের আরএমওকে হুমকি

টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের আরএমওকে হুমকি 

টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের আরএমওকে  হুমকি 
টাঙ্গাইল: ‘আপনি কি আরএমও ? আপনি আমাকে চেনেন? আমি সুমন মিয়া, বাবার নাম সাইফুল ইসলাম। আপনি এর প্রতিবাদ করেন, আপনার সাহসতো কম না! আপনার দৌড় কোন পর্যন্ত আমি কিন্তু জানি।
আমাকে আপনি চেনেন? আমি আপনাকে দেখে নেব। ’ 
এভাবেই টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. শফিকুল ইসলাম সজিবকে হুমকি দিচ্ছিলেন হাসপাতালের গেটের সামনে পার্ক করা মোটরসাইকেল থেকে চাঁদা আদায়কারী সুমন।
টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের গেটে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই দিতে হচ্ছে ১০ টাকা করে চাঁদা। আর কেউ এ চাঁদা দিতে না চাইলে বিভিন্নভাবে নাজেহাল হতে হচ্ছে।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে সদর হাসপাতালেরে সামনে গিয়ে দেখা যায়, কেউ হাসপাতালের গেটে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবেশ করতেই সুমন ও তার দুই-তিনজন সহযোগী মোটরসাইকেলের গতি রোধ করেন। কেন গতি রোধ করা হলো জানতে চাইলে সুমন নিজেকে হাসপাতালের মোটরসাইকেলের গ্যারেজের ঠিকাদার দাবি করে ১০ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

এসময় ১০ টাকা চাঁদা দিয়ে রশিদ দাবি করেন এক রোগীর স্বজন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে যান সুমন। রোগীর ওই স্বজনকে বকাঝকা করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন।  
ছিলিমপুর থেকে আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছেন হাসপাতালে তার এক স্বজনকে দেখতে। স্বজনকে দেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার সময় তার কাছে ১০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এসময় আনোয়ার হোসেন রশিদ ছাড়া টাকা দিতে না চাইলে শুরু হয় কথা কাটাকাটি।

এদিকে হাসপাতালের মোটরসাইকেল গ্যারেজটি ঈদ উপলক্ষে ৪ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ মর্মে নোটিশ টাঙানো হয়েছে। অথচ তারা অন্যায়ভাবে সব মোটরসাইকেলের চালকদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করছেন।  

টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম সবিজকে এক ভুক্তভোগী ফোন করে বিষয়টি জানালে আরএমও অভিযুক্ত সুমনকে ফোন করে এর কারণ জানতে চাইলে তাকেও অশ্লীল ভাষায় বকাঝকা করেন সুমন।

সুমন তাকে বলেন, ‘আপনি কি আরএমও বলছেন? আপনি আমাকে চেনেন? আমি সুমন মিয়া, বাবার নাম সাইফুল ইসলাম। আপনি এর প্রতিবাদ করেন, আপনার সাহসতো কম না! আপনার দৌড় কোন পর্যন্ত আমি কিন্তু জানি। আমাকে আপনি চেনেন? আমি আপনাকে দেখে নেব। ’ 

রোগী দেখতে আসা আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে হাসপাতালের গেটে এসে প্রথমে মোটরসাইকেলটি গ্যারেজে রাখতে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, ঈদ উপলক্ষে ৪ আগস্ট পর্যন্ত গ্যারেজ বন্ধ রাখার নোটিশ টাঙানো। এরপর তিনি মোটরসাইকেলটি হাসপাতালের নিচে রেখে রোগী দেখে ফেরার সময় তার গতি রোধ করেন সুমন। এসময় তার কাছে ১০ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। কি কারণে ১০ টাকা দিতে হবে জানতে টাইলে সুমন জানান, মোটরসাইকেলের গ্যারেজ ভাড়া। এসময় তিনি ১০ টাকা দিতে না চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল করা হয়।

টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. শফিকুল ইসলাম সজিব জানান, হাসপাতালের মোটরসাইকেল গ্যারেজটি ঈদ উপলক্ষে ৪ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। আর গ্যারেজ খোলা থাকলেও যার ইচ্ছে মোটরসাইকেল রাখবে, যার ইচ্ছে রাখবে না। এ কারণেতো কেউ জোর করে টাকা নিতে পারেন না। সুমন যেভাবে টাকা আদায় করছেন, তা সম্পূর্ণ অবৈধ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুতই প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



শেয়ার করুন

0 Please Share a Your Opinion.: