Thursday, 17 September 2020

অবশেষে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের কথা স্বীকার করলো মিয়ানমার

শুরু থেকে নির্যাতন বা গণহত্যার কথা অস্বীকার করলেও এবার নতুন করে এ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। 

মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এক বিবৃতিতে একথা জানানো হয়।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযান থেকে প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। সেখানে গণহত্যা, ধর্ষণ, ঘরবাড়িতে আগুন দেয়ার ভয়াবহতার বর্ণনা জানা যায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে।

শুরু থেকেই জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘটনাকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা বলে বর্ণনা করলেও বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

 


রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বৈধ অভিযান চালানো হয়েছে দাবি করে তাদের বক্তব্য, কিছু গ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায়ে কয়েকজন সেনা সদস্যকে কোর্ট মার্শাল করা হয়েছে।

তবে এবার রোহিঙ্গাদের ওপর সম্ভাব্য নির্যাতনের কথা স্বীকার করলো মিয়ানমার। দেশটির সেনাবাহিনী বলছে, ২০১৬ এবং ২০১৭ সালের ওইসব নির্যাতনের ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। মঙ্গলবার তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার গঠিত কমিশনের একটি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ওই প্রতিবেদনে মিয়ানমার সেনাদের যুদ্ধাপরাধের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সহিংসতার তদন্তের ক্ষেত্র আরো প্রসারিত করা হচ্ছে। তদন্তের আওতায় মংডু এলাকার গ্রামগুলোতে নির্যাতনের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে।

এ বছর জানুয়ারিতে রাখাইনে সেনা অভিযানের সময় রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত হওয়ার প্রমাণ পায় মিয়ানমার সরকারের একটি তদন্ত প্যানেলও। তারাও সেখানে গণহত্যার কোনো প্রমাণ পায়নি বলে জানানো হয়।

এদিকে গত সপ্তাহেই ওই অভিযানে রোহিঙ্গা হত্যার বিষয়ে দুই সেনার স্বীকারোক্তির ভিডিও প্রকাশ করে মানবাধিকার সংগঠন ফরটিফাই রাইটস।

ভিডিওতে তারা জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই রাখাইনে জাতিগত নিধন অভিযান চালানো হয়। সেনাদের প্রতি নির্দেশ ছিল, রোহিঙ্গা দেখা মাত্রই গুলি করার। উচ্চ পদস্থদের এমন আদেশেই নির্বিচারে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ চালানো হয়।

শেয়ার করুন

0 Please Share a Your Opinion.: